বাংলা একাডেমি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ইতিহাস ও কার্যাবলি

বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৫৫ সালের ৩রা ডিসেম্বর। এদিন ‘বর্ধমান হাউস’-এর সম্মুখস্থ বটতলায় উদ্বোধন-অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পূর্ববাংলার তদানীন্তন মুখ্যমন্ত্রী জনাব আবু হোসেন সরকার ‘উদ্বোধনী ভাষণ’ পাঠ করেন। পূর্ববাংলার তদানীন্তন শিক্ষামন্ত্রী জনাব আশরাফ উদ্দীন আহমদ চৌধুরীও অনুষ্ঠানে ভাষণ প্রদান করেন।

১৯৫৫ সালের ২৬শে নভেম্বর পূর্ববাংলা সরকার বাংলা একাডেমির আয়োজক সমিতি (প্রিপারেটরি কমিটি) গঠন করে আদেশ জারি করেন। জনাব মোহম্মদ বরকতুল্লাহ একাডেমি র স্পেশাল অফিসার (প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা) নিযুক্ত হন। তিনি অবসরগ্রহণ করার পর ১৯৫৬ সালের ১লা ডিসেম্বর ড. মুহম্মদ এনামুল হক বাংলা একাডেমির প্রথম পরিচালকের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। ১৯৫৭ সালের ৩রা এপ্রিল পূর্ব পাকিস্তান আইন পরিষদে ‘দি বেংগলি একাডেমি অ্যাক্ট ১৯৫৭’ গৃহীত হয়। এই আইনে বাংলা একাডেমিকে একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা প্রদান করা হয়। ১০ই আগস্ট, ১৯৫৭ তারিখে উক্ত আইন বলবৎ হয়। এই আইনে বাংলা একাডেমি কাউন্সিল গঠনের বিধান থাকায় একাডেমির আয়োজক সমিতি ‘কাউন্সিল’-এর নাম ও মর্যাদা লাভ করে। বাংলা একাডেমি কাউন্সিল-এ ৬জন নির্বাচিত সদস্যের বিধান রাখা হয়। কাউন্সিল-এর প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৫৮ সালের ২৬শে মার্চ।

বাংলা একাডেমির কাজ শুরু হয় গবেষণা বিভাগ, অনুবাদ বিভাগ, সংকলন ও প্রকাশনা বিভাগ এবং সংস্কৃতি বিভাগ নামে চারটি বিভাগ নিয়ে। ১৮.০৫.১৯৫৭ তারিখে অনুষ্ঠিত ১০ম সভায় আয়োজক সমিতি বিভাগসমূহের পুনর্বিন্যাস করে ৬টি বিভাগ গঠন করে। বিভাগগুলো হলোঃ (১) গবেষণা বিভাগ, (২) অনুবাদ বিভাগ, (৩) সংকলন বিভাগ, (৪) প্রকাশন ও বিক্রয় বিভাগ, (৫) সংস্কৃতি বিভাগ এবং (৬) গ্রন্থাগার বিভাগ। একাডেমির বিভাগসমূহের এই বিন্যাস ১৯৭২ সালের ১৬ই মে পর্যন্ত অপরিবর্তিত ছিল। তবে গঠনের পরপরই এসব বিভাগ কাজ শুরু করতে পারেনি।

গবেষণা বিভাগের প্রতিষ্ঠা ও সূচনা হয় ১৯৫৮ সালের জানুয়ারি মাসে। ১৯৬১-৬২ সাল থেকে সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে অনুবাদ বিভাগ কাজ শুরু করে। সংস্কৃতি বিভাগ ও গ্রন্থাগার বিভাগ চালু করা হয় ১৯৫৮ সালের জানুয়ারি মাসে। ১৯৫৭ সালের গোড়ার দিকে প্রকাশন বিভাগের কার্যক্রম শুরু হয়। অতঃপর ১৯৬০ সালের ২৬শে জুলাই পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ‘দি বেংগলি একাডেমি (এমেন্টমেন্ট) অর্ডিন্যান্স’ জারি করেন। এতে সভাপতি নিয়োগসহ কাউন্সিল গঠন বিষয়ে কিছু সংশোধনী আনা হয়। এ ছাড়া একাডেমির কর্মকাণ্ড পরিচালনা বিষয়ে সরকারের নিয়ন্ত্রণ আরো জোরদার করা হয়।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৭২ সালের ১৭ই মে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ‘দি বাংলা একাডেমি অর্ডার, ১৯৭২’ জারি করেন। এই আদেশ দ্বারা কেন্দ্রীয় বাঙলা উন্নয়ন বোর্ড বাংলা একাডেমির সাথে সমন্বিত হয়, কাউন্সিলের নাম পরিবর্তন করে ‘কার্যনির্বাহী পরিষদ’ করা হয় এবং মহাপরিচালকের পদ সৃষ্টি করা হয় বাংলা একাডেমির প্রধান নির্বাহী হিসেবে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রধান প্রফেসর মযহারুল ইসলাম বাংলা একাডেমির প্রথম মহাপরিচালক নিযুক্ত হন। এই আদেশবলে বাংলা একাডেমির বিভাগসমূহ পুনর্বিন্যস্ত করে মোট ৭টি বিভাগ গঠন করা হয়। বিভাগসমূহ হচ্ছেঃ

(১) প্রাতিষ্ঠানিক বিভাগ, (২) গবেষণা ও সংকলন বিভাগ, (৩) অনুবাদ বিভাগ, (৪) সংস্কৃতি বিভাগ, (৫) প্রকাশন, বিক্রয় ও প্রেস বিভাগ, (৬) পাঠ্যপুস্তক বিভাগ এবং (৭) ফোকলোর বিভাগ। এরপর ১৯৭৮ সালের ৬ই জুন ‘দি বাংলা একাডেমি অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৮’ জারি করা হয়।

১৯৮৩ সালের ২৫শে মে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের এক আদেশবলে একাডেমির বিভাগসমূহের সংখ্যা কমিয়ে ৪টি করা হয় এবং গ্রন্থাগারকে পৃথক করা হয়। (১) গবেষণা, সংকলন ও ফোকলোর বিভাগ, (২) ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও পত্রিকা বিভাগ, (৩) পাঠ্যপুস্তক বিভাগ এবং (৪) প্রাতিষ্ঠানিক, পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ বিভাগ।

বর্তমানে ২০১৩ সনের ৩৩নং আইন Bangla Academy Ordinance, 1978 রহিতপূর্বক সংশোধনসহ উহা পুনঃপ্রণয়ন ও সংহত করিবার উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন অনুযায়ী বাংলা একাডেমিতে ৮জন পরিচালকের নিয়ন্ত্রণাধীন ৮টি বিভাগ রয়েছে । বিভাগুলো নিম্নরূপঃ

(১) গবেষণা, সংকলন এবং অভিধান ও বিশ্বকোষ (২) অনুবাদ, পাঠ্যপু্স্তক ও আন্তর্জাতিকসংযোগ (৩) জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ (৪) বিক্রয়, বিপণনও পুনর্মুদ্রণ  (৫) সংস্কৃতি, পত্রিকা ও মিলনায়তন (৬) গ্রন্থাগার (৭) ফোকলোর, জাদুঘর ওমহাফেজখানা এবং (৮) প্রশাসন, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও পরিকল্পনা বিভাগ।

 

কার্যাবলি

১. জাতীয় আশা আকাঙ্ক্ষার সাথে সঙ্গতি রেখে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির উন্নয়ন, লালন ও প্রসার;
২. বাংলা ভাষার প্রামাণ্য অভিধান, পরিভাষা ও ব্যাকরণ রচনা, রেফারেন্স গ্রন্থ, গ্রন্থপঞ্জি এবং বিশ্বকোষ প্রণয়ন, প্রকাশন ও সহজলভ্যকরণ;
৩. বাংলা শব্দের প্রমিত বানান ও উচ্চারণ নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বাংলা ভাষার ব্যবহার ব্যাপকতর ও সমৃদ্ধতরকরণ;
৪. বাংলা ভাষায় উচ্চতর পর্যায়ে পাঠ্যপুস্তক রচনা করা এবং উক্ত উদ্দেশ্যে গবেষণা, অনুবাদ গ্রন্থ এবং ভাষা-আন্দোলন ও স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস সম্পর্কিত গবেষণা ও সংকলন গ্রন্থ প্রকাশকরণ;
৫. আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলা সাহিত্যের প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় বাংলা সাহিত্যকর্মের অনুবাদ এবং অন্যান্য ভাষার উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম বাংলায় অনুবাদের ব্যবস্থা করা;
৬. সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারী তথা সকল পর্যায়ের গণকর্মচারীদের বাংলা ভাষায় দক্ষতা অর্জন, বাংলা বানানরীতি ও ব্যবহার সম্পর্কে বিশেষ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা।
৭. সাহিত্য পুরস্কার প্রদান এবং বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রবর্তন এবং ফেলো, জীবনসদস্য ও সদস্যপদ প্রদান;
৮. বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠক্রমে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, সংস্কৃতি ও জ্ঞানচর্চা বহির্বিশ্বে প্রচার ও পরিচিতকরণ।


Share with :

Facebook Facebook