বাংলা একাডেমি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২৬ নভেম্বর ২০১৯

ভাষাবিজ্ঞানী অধ্যাপক মুহম্মদ আবদুল হাই জন্মশতবর্ষ উদযাপন


প্রকাশন তারিখ : 2019-11-26

বাংলা একাডেমি আজ ১১ই অগ্রহায়ণ ১৪২৬/২৬শে নভেম্বর ২০১৯ মঙ্গলবার বিকেল ৪:০০টায় একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে ভাষাবিজ্ঞানী অধ্যাপক মুহম্মদ আবদুল হাইয়ের জন্মশতবর্ষ উদ্যাপন উপলক্ষ্যে একক বক্তৃতানুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী। মুহম্মদ আবদুল হাইয়ের ভাষাপরিকল্পনা শীর্ষক বক্তৃতা প্রদান করেন অধ্যাপক স্বরোচিষ সরকার। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। অনুষ্ঠানের শুরুতে সদ্যপ্রয়াত কবি স্থপতি ও বাংলা একাডেমির ফেলো রবিউল হুসাইন এবং সংগীত-সাধক লেখক ও বাংলা একাডেমির ফেলো মোবারক হোসেন খানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

স্বাগত ভাষণে হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, মুহম্মদ আবদুল হাই বাংলা সাহিত্য এবং বাঙালি সংস্কৃতির নিষ্ঠ সাধকপুরুষ। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের গবেষণাধারায় তাঁর অবদান কখনও বিস্মৃত হবার নয়। মুহম্মদ আবদুল হাই বেঁচেছিলেন পঞ্চাশ বছর। মাত্র পঞ্চাশ বছর বয়সে তিনি যে কাজ করেছেন, তা বাংলা ও বাঙালির জন্য হয়ে উঠেছে বিশেষ অবলম্বন। ঊষর সমকালে বিরূপ রাজনৈতিক অবস্থায় দাঁড়িয়ে মুহম্মদ আবদুল হাই বাঙালিচেতনার অন্যতম বাতিঘরের মতো কাজ করেছিলেন।

একক বক্তা অধ্যাপক স্বরোচিষ সরকার বলেন, মুহম্মদ আবদুল হাই ১৯৫৪ সাল থেকে দীর্ঘ পনেরো বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যক্ষ ছিলেন। এই কালপর্বের অব্যবহিত পূর্বে সংঘটিত হয় ভাষা আন্দোলন এবং অব্যবহিত পরে শুরু হয় বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম। তাঁর বিভাগের ছাত্ররা উভয় আন্দোলন ও সংগ্রামের পুরোভাগে ছিলেন। এছাড়া বাংলা বিভাগে তাঁর অধ্যক্ষতার কাল ছিলো মূলত বাংলা ভাষাভিত্তিক জাতীয়তা বিকাশের কাল। তিনি বলেন, ১৯৬৩ সালে মুহম্মদ আবদুল হাই বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি অঙ্গীকারে অংশ হিসেবেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে সপ্তাহব্যাপী ভাষা ও সাহিত্য সপ্তাহ আয়োজন করেছিলেন। এই অনুষ্ঠান আয়োজনের পেছনে তিনি তাঁর দুটি উদ্দেশ্যের কথা বলেছেন, এক. বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি দেশের মানুষের আগ্রহ সৃষ্টি করা, দুই. সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালু করার ব্যাপারে সবাইকে উৎসাহিত করা। একক বক্তা বলেন, যোগাযোগের ভাষা হিসেবে একুশ শতকের সূচনায় বাংলাদেশ চলিত-রীতি ভিত্তিক যে প্রমিত গদ্যভাষা পেয়েছে, সেই প্রাঞ্জল ভাষাকে মুহম্মদ আবদুল হাইয়ের উত্তরাধিকার বলা চলে অনায়াসেই।

সভাপতির ভাষণে জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, মুহম্মদ আবদুল হাই বেঁচেছিলেন পঞ্চাশ বছর। মাত্র পঞ্চাশ বছর বয়সেই বাংলা ভাষা-সাহিত্যে তিনি যে অবদান রেখে গেছেন তা মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ। জন্মশতবর্ষে তাঁর প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধা জানাই।

আগামীকাল রবিউল হুসাইনের প্রতি শহিদ মিনারে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন
প্রয়াত কবি ও স্থপতি রবিউল হুসাইনের মরদেহ আগামীকাল ২৭ নভেম্বর বুধবার সকাল ১১:০০টায় সর্বসাধারণের শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের জন্য কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে রাখা হবে।


অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ


Share with :

Facebook Facebook